ঘুর্নিঝড়ের নামকরন কীভাবে হয়!!

ঘূর্ণিঝড় নাম করন:




ঘূর্ণিঝড় বা ঘূর্ণিবাত্যা হল ক্রান্তীয় অঞ্চলের সমুদ্রে সৃষ্ট বৃষ্টি, বজ্র ও প্রচন্ড ঘূর্ণি বাতাস সংবলিত আবহাওয়ার একটি নিম্ন-চাপ প্রক্রিয়া যা নিরক্ষীয় অঞ্চলে উৎপন্ন তাপকে মেরু অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত করে। এই ধরনের ঝড়ে বাতাস প্রবল বেগে ঘুরতে ঘুরতে ছুটে চলে বলে এর নামকরণ হয়েছে ঘূর্ণিঝড়। ঘূর্ণিঝড়ের ঘূর্ণন উত্তর গোলার্ধে ঘড়ির কাঁটার বিপরীত দিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে ঘড়ির কাঁটার দিকে।

ঘূর্ণিঝড় উপকূলে আঘাত হানলে যদিও দুর্যোগের সৃষ্টি হয়, কিন্তু এটি আবহাওয়ার একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া, যা পৃথিবীতে তাপের ভারসাম্য রক্ষা করে। গড়ে পৃথিবীতে প্রতি বছর প্রায় ৮০ টি ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হয়। এর অধিকাংশই সমুদ্রে মিলিয়ে যায়, কিন্তু যে অল্প সংখ্যক উপকূলে আঘাত হানে তা অনেক সময় ভয়াবহ ক্ষতি সাধন করে




আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুসারে যে মহাসাগরে ঘূর্ণিঝড় তৈরি হয়, তার অববাহিকায় থাকা দেশগুলি তার নামকরণ করে। মোট ১১টি সংস্থা ঘূর্ণিঝড়ের নাম ঠিক করে। আবহবিদদের মতে, সাধারণ মানুষের কাছে ঝড় সম্পর্কে তথ্য পৌঁছে দিতে হলে একটা সহজ নাম থাকা দরকারি। তা না হলে একই সময় একই সমুদ্রে একাধিক ঝড় থাকলে চিহ্নিত করতে সমস্যা হয়। ঝড় চলে গেলেও একই সমস্যায় পড়েন আবহবিদরা। অতীতে কোনও ঝড়ে কোনও জাহাজ ডুবে গেলে সেই জাহাজের নামে হত ঝড়ের নাম অথবা যে জায়গায় ঝড় আছড়ে পড়তো সেই জায়গার নাম অনুসারে ঝড়ের নামকরণ হত। কখনওবা বিভিন্ন সংখ্যা দিয়ে ঝড়গুলোকে শনাক্ত করা হতো। আবার কখনো কখনো অক্ষাংশ দ্রাঘিমাংশর ওপর ভিত্তি করেও নাম রাখা হত। কিন্তু এই সমস্ত সংখ্যা সাধারণ মানুষের কাছে ছিল দুর্বোধ্য। ফলে সাধারণ মানুষ, মৎস্যজীবী, বা নৌযানগুলোকে ঝড়ের পূর্বাভাস দেওয়া বা সতর্ক করা কঠিন হয়ে যেত। তাছাড়া ঘূর্ণিঝড়ের নাম রাখলে তাতে যে শুধু সাধারণ মানুষ উপকৃত হয় তা নয়; বিজ্ঞানী, প্রচারমাধ্যম, বিপর্যয় মোকাবিলা দল প্রভৃতিরও সুবিধা হয়। নির্দিষ্ট নাম ব্যবহারের ফলে একটি নির্দিষ্ট ঘূর্ণিঝড়ের বর্তমান অবস্থান নির্ধারণ, তীব্রতা নির্ণয়ের ক্ষেত্রে, একই অঞ্চলে সৃষ্ট একাধিক ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষেত্রে যে বিভ্রান্তি তৈরি হয় তা দূর করতেও সুবিধা হয়। এছাড়া সতর্কবার্তা দেওয়া সহজ হয়।এই সমস্ত সমস্যার সমাধানের জন্য ২০০০ সালে ঝড়ের নামকরণের জন্য নিয়ম বানানো হয়





ওয়ার্ল্ড মেটেরোলজিক্যাল অরগানাইজেশন (World Meteorological Organisation (WMO)) এবং ইউনাইডেট নেশনস ইকোনমিক অ্যান্ড সোশ্যাল কমিশন ফর এশিয়া এন্ড দ্য প্যাসিফিক-এর (United Nations Economic and Social Comission for Asia and the Pacific) সদস্য দেশগুলি ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ শুরু করে। এর মধ্যে রয়েছে  ভারত বাংলাদেশ মালদ্বীপ, মায়ানমার, ওমান, পাকিস্তান শ্রীলঙ্কা ও থাইল্যান্ড।এই সমস্ত দেশের কাছ থেকে ঝড়ের নাম চাওয়া হয়। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার বৈঠকে আবহাওয়া কর্মকর্তারা আগে থেকে আলোচনা করে নেন কি নাম হবে। পরে পর্যায়ক্রমে সেই তালিকা থেকে ঝড়ের নাম বাছাই করা হয়।

তবে ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণের ক্ষেত্রে কতগুলো নিয়ম মেনে চলা হয়। 

প্রথমতঃ প্রস্তাবিত নামগুলি যেন কোনো রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তি বা কোন ধর্মীয় ভাবনা সংস্কৃতি অথবা লিঙ্গ পক্ষপাতদুষ্ট না হয়।

দ্বিতীয়তঃ নামগুলি যেন পৃথিবীর কোন জনগোষ্ঠী বা সমষ্টি ভাবনায় আঘাত না করে।

 তৃতীয়তঃ নামের মধ্যে রুক্ষতা নির্মমতা প্রকাশিত যেন না হয় । চতুর্থতঃ নামগুলি হবে সংক্ষিপ্ত সহজে উচ্চারণ করা যায় এমন এবং সর্বগ্রহণযোগ্য।

 পঞ্চমতঃ নামের সর্বোচ্চ দৈর্ঘ্য আট অক্ষরের বেশী হবেনা। ষষ্ঠতঃ প্রস্তাবিত নামের সঙ্গে উচ্চারণ নির্দেশিকা এবং ভয়েস ওভার দিতে হবে। সপ্তমতঃ নামগুলি পুনরাবৃত্তি হবে না।


প্রতিটি দেশের ৮টি করে নাম বাছাই করে মোট ৬৪টি ঝড়ের নামকরণ করা হয়। বঙ্গোপসাগর এবং আরব সাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ করে এই ৮টি দেশ। ২০০৪ সাল থেকে বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগরের উপকূলবর্তী দেশগুলিতে ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ শুরু হয়। প্রথম তালিকায় ঘূর্ণিঝড়ের প্রথম নাম হয় ‘অনিল’। এই নামটি রেখেছিল বাংলাদেশ। ঘূর্ণিঝড়টি আছড়ে পড়েছিল ভারতের গুজরাটে। এরপর তালিকা অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে প্রতিটি ঘূর্ণিঝড়ের নাম দেওয়া হয়েছে। সেই তালিকায় শেষ নাম ‘আমফান’ বা ‘উম্পুন’। যার অর্থ দৃঢ়তা, শক্তি বা স্বাধীন চিত্ত। ২০০৪ সালে থাইল্যান্ড এই নামটি দেয়। ২০২০ সালে ২০ মে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে, উড়িষ্যার কিছু অংশে এই বিধ্বংসী ঘূর্ণিঝড় ‘আমফান’ ‌আঘাত হানে এবং তারপর বাংলাদেশের দিকে চলে যায়। এই বছরই ৩ জুন মহারাষ্ট্রে ‘নিসর্গ’ নামক ঘূর্ণিঝড় আছড়ে পড়ে।
২০১৮ সালে ওই আটটি দেশের সঙ্গে যোগ করা হয় আরও ৫টি দেশকে। এই দেশগুলি হল- ইরান, কাতার, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী এবং ইয়েমেন। 





Comments

Popular posts from this blog

AZIZUL KHAN, THE INVENTOR OF FINGER PRINT HISTORY

THE LIFE OF ALAIN ASPECT

EVOLUTION

THE HISTORY OF NOVEL PRICE

BIOTERRORISM (BIOWEAPON -5)

HISTORY OF Submarine (PART-I)

HISTORY OF SUBMARINE (PART-II)

Defend and BIOWEAPON -(BW8)

BIOWEAPON (PART-3)

BIOLOGICAL WARFARE (PART-1)